Showing posts with label হোম. Show all posts
Showing posts with label হোম. Show all posts

Sunday, September 30, 2018

                       
একজন ব্যবস্থাপককে যেমন প্রতিদিনকার তার অধিনস্ত কর্মীদের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিতে হয় ঠিক তেমনি মাঝে মাঝে কর্মীদের কাজের সমালোচনাও করতে হয়। একজন কর্মীর তার কাজের ক্ষেত্রে দক্ষ হয়ে উঠার পেছনে বসের সহযোগীতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গঠনমূলক সমালোচনাও বেশ ভূমিকা রাখে।
তবে,উক্ত সমালোচনা একজন কর্মীকে কিভাবে ( ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক) প্রভাবিত করবে তা নির্ভর করে স্থান,কাল,পাত্র ভেদে সঠিকভাবে তা প্রকাশ করার উপর।
‍
এক্ষেত্রে একজন ক্রীড়াবিদ ও একজন কর্মীকে প্রশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকে এক সূত্রে যোগ করা যেতে পারে। যেমন - কোন কোচ/প্রশিক্ষক যেমন একজন ক্রীড়াবিদের পারফরম্যান্স উন্নয়নের জন্য যেভাবে গঠনমূলক সমালোচনা করেন ঠিক একইভাবে যদি কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের সাথে গঠনমূলক আলোচনা করা যায় তবে তা ইতিবাচক ফল দেয়।
উভয় ক্ষেত্রেই সঠিক/গঠনমূলক সমালোচনা যেমন শ্রদ্ধা ও আস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমে পারস্পারিক লক্ষ্য অর্জনকে সহজতর করে তেমনি অনুপযোগী সমালোচনা ঊর্ধ্বতন-অধস্থন মধ্যকার সম্পর্ক বিষাক্ত করে তোলে।
আপনার কি মনে হয়??????        এক্ষেত্রে কি করা যেতে পারে???????

মনে রাখতে হবে, একজন ব্যবস্থাপকের সার্থকতা শুধু তার কর্মীদের কাছ থেকে যেনতেন ভাবে কাজ আদায় করিয়ে নেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রতিনিয়ত সঠিক ভাবে দিক-নির্দেশনা প্রদান করা যাতে করে কাজের সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকে। এক্ষেত্রে নিচের বিষয় গুলোর দিকে নজর দেয়া যেতে পারে। যেমন----

১. কর্মীদের সমস্যা ও তার সমাধানের উপায়গুলো নির্দিষ্ট করা :


আজকের দিনে ব্যবস্থাপকেরা সাধারণত কর্মীদের কাজের গতানুগতিকভাবে সমালোচনা করে থাকেন। একটা কমন পরিস্থিতির কথা চিন্তা করুন। যেমনঃ
             
“আমি বলেছিলাম কাজটা অন্য ভাবে করার জন্য। এভাবে কে করলো?”  

এর জবাবে হয়তো কোন কর্মীর নাম আপনার কানে আসবে। আপনি হয়তো রেগে গিয়ে অফিসের অন্যান্য কর্মীদের সামনেই উক্ত কর্মীকে অনেক কিছুই বললেন যা কাম্য হতে পারে না।
কর্মীদের সাথে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলুন
কর্মীদের সাথে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলুন

আমাদের সমস্যাটা ঠিক এখানেই। কেননা অধিকাংশ ব্যবস্থাপকই কর্মীর কাছে কি প্রত্যাশা করে থাকেন তা স্পষ্ট করে বলেন না বরং সামগ্রিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এক্ষেত্রে হয় কি কর্মীরা অনেক সময় সমস্যা সমাধানের সঠিক উপায়টি খুঁজে নিতে ব্যর্থ হয়।

এক্ষেত্রে একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের কাজ হল গঠনমূলক সমালোচনা বা কার্যকরী আলোচনার মাধ্যমে কর্মীদেরকে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে তার ভুলটা ধরিয়ে দেয়া এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দিতে হবে।

ঠিক যেমন  ক্রিকেটে একজন ব্যাটিং কোচ ব্যাটসম্যানের সুক্ষ্ন সুক্ষ্ন বিষয়(ফুট ওয়ার্ক, গ্রিপ প্রভৃতি ) নিয়ে আলোচনা করে থাকেন। কর্মক্ষেত্রেও ঠিক এ ধরনের গঠনমূলক আলোচনা কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে যা একই সাথে কর্মীর আত্নবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুন।

২. কর্মীদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনার যোগসূত্র তৈরী করা:

আমাদের সবার মাঝেই স্বপ্ন থাকে জীবনে কিছু একটা করার। ধরুন কেউ হয়তো বড় ক্রীড়াবিদ হতে চান। এর জন্য তার নিজের সাথে সাথে তার বাবা মাকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে। সে হয়তো দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে একদিন অলিম্পিকের মত বড় কোন আসরে অংশ নিয়ে বাবা মায়ের স্বপ্ন পুরন করবে।

কিন্তু কঠোর অনুশীলনে মাঝে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। অমনোযোগী হয়ে পড়েন। আসলে এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক নয় কি?????
অবশ্যই স্বাভাবিক কেননা আমরা মানুষ। তাই আমাদের প্রয়োজন হয় একজন ভালো মেন্টর/ পরামর্শ দাতার।

খেলোয়াড়ি জীবনে কোচ তাকে উৎসাহিত করার জন্য কখনো কখনো বাবা মায়ের প্রতি তার মানসিক অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তার স্বপ্নটাকে আরও উজ্জ্বলতা দান করেন। যার ফলে নিস্তেজতা কাটিয়ে সে আরো বেশি উদ্যমী হয়ে উঠবেন তার লক্ষ পূরণে।


কর্মক্ষেত্রেও ঠিক একই পদ্ধতি অবলম্বনে কর্মীদের নিকট থেকে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যেতে পারে।
ধরুন, সাপ্তাহিক মিটিংগুলোতে অফিসের কোন একজন সহকর্মীর পৌঁছোতে প্রায়ই তার বিলম্ব হয় (ট্রাফিক কিংবা ব্যস্ততার কারনে)। এরকম পরিস্থিতিতে আজকের দিনে ব্যবস্থাপকদের আচরণ কি হতে পারে, আশা করি বুঝতেই পারছেন!!!!  এমতাবস্থায় তার সাথে রুঢ় আচরণ ভালো কোন ফল তো বয়েই আনবেই না বরং এখানেই একজন আদর্শ ব্যবস্থাপক গতানুগতিক ব্যবস্থাপকদের চেয়ে ভালো একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করার সুযোগ রাখেন।
                                  
                    কিভাবে??????
 তিনি হয়তো তাকে সুন্দরভাবে বলতে পারেন যে –

“তুমি কি মনে করো না এই কোম্পানিটি তোমার???
   যদি তাই মনে করো তাহলে কাজে অবহেলা কেন করছো!!!!
     ঠিক মত পৌঁছুতে না পারার করণে তোমার অন্যান্য -
     কলিগরাও কি মনে করছে তোমার সম্পর্কে, জানো তুমি??
       তুমি কি তাহলে মনে করো না যে সঠিক সময়ে পৌঁছুতে তোমার আরও প্রচেষ্টা চালানো উচিত”

              কিংবা কৌশলী হয়ে বলা যেতে পারে,

“ তোমার মনে হয় না এই প্রবনতার কারণে সহকর্মীদের
        কাছে তোমার নষ্ট সুনাম হচ্ছে ? ”

এভাবে কর্মীর ব্যক্তিগত বিষয়ের সাথে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুগুলোর গঠনমূলক সমালোচনার যোগসূত্র তৈরী করতে পারলে উক্ত কর্মীটিও হয়তো তার উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রতি আরো বেশি সচেষ্ট হয়ে ওঠবে এবং সমালোচনাটি হয়ে ওঠে গঠনমূলক।

৩. সমালোচনার মাঝে আস্থা ও প্রত্যাশা প্রকাশ করা:


একটি দৃশ্য আমরা প্রায়ই দেখে থাকি যে কখনো কখনো কোচ তার খেলোয়াড়দের সাথে চিৎকার চেঁচামেচি করেন যাতে কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় আবার কখনো প্রচন্ড উচ্ছাস নিয়ে ভাল পারফরম্যান্স’র জন্য বাহবা দিয়ে থাকেন।
কর্মীদের অনুপ্রাণিত করুন
কর্মীদের অনুপ্রাণিত করুন

কর্মক্ষেত্রেও ব্যবস্থাপকেরা ঠিক একইভাবে কর্মীদের অনুপ্রাণিত করতে পারেন। হয়তো অফিস শেষে বের হওয়ার সময় সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলতে পারেন যে -

“ বরাবরের মত এই মাসের সেলস টার্গেটও পূরণ করতে পেরেছি,
তবে এটা ভুলে গেলে চলবে না আমরা আরও ভাল কিছু করার সক্ষমতা রাখি, তাই না!!!!! “

যদিও অনেকেই বিশ্বাস করে থাকেন যে, কর্মক্ষেত্রে নিরুদ্বেগ ও নিরপেক্ষে অভিব্যক্তির সমালোচনাই বেশি কার্যকর। তবে বিভিন্ন সময় এটা প্রমানিত হয়েছে যে আবেগহীন কথোপকথনের চেয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা, প্রত্যশা এবং আস্থার প্রকাশের মাধ্যমে কর্মীদের সাথে আলোচনা বা কোন কাজের সমালোচনা বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

৪. কর্মীর পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দেয়া:

কোন কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তার উপরে বিচার বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। একজন খেলোয়াড় কেমন পারফর্ম করলো কোচ সেদিকে তীক্ষ্ন নজর রাখেন। তেমনি খেলোয়াড়েরাও প্রত্যাশা করে থাকেন কোচ তাদের পারফর্মেন্সের উপরে বিশ্লেষণী মতামত দেবেন।

কোচ তার নিজস্ব প্রতিক্রিয়া গুলো দলের সকল খেলোয়াড়দের সাথে শেয়ার করবেন যাতে পরবর্তীতে আরো ভালো করার উপায়গুলো নিয়ে নিজের মধ্যে পরিকল্পনা করতে পারেন।

ঠিক তেমনি কর্মীরাও তাদের কাজের ফিডব্যাক প্রত্যাশা করে থাকেন এবং সেই সমালোচনায় ভবিষ্যতে আরো ভালো করার দিক নির্দেশনা থাকবে এমনটাই তারা প্রত্যাশা করে থাকেন।
  
তাই যখন কোন কর্মীর সমালোচনা করা প্রয়োজন পড়ে তখন ঊর্ধ্বতনদের চিন্তা করতে হবে যে - সে কিভাবে, কখন, কোন পরিস্থিতে সমালোচনা গ্রহণ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করবেন। কেউ কেউ হয়তো ই-মেইলে বা ব্যক্তিগত আলোচনায় স্বাচ্ছন্দবোধ করতে পারেন। কেউ আবার আড়ালে যাতে করে অন্যরা না জানতে পারে আবার কেউ অফিসে না করে এমন আলোচনা অফিসের বাইরে  অন্য কোথাও করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। 

তাই এখানে কর্মীর সাইকোলজি বোঝার চেষ্টা করতে হবে যে কর্মী তার কাজের সমালোচনা কিভাবে এবং কোন স্থানে বসে শুনতে চান। এ ক্ষেত্রে কর্মীর ব্যক্তিগত পছন্দের প্রতি সম্মান জানানো উচিৎ নতুবা নেতিবাচক কিছু ঘটার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।

কর্মক্ষেত্রে ব্যবস্থাপক এবং তার সহকর্মীদের মধ্যকার সম্পর্ক সাবলীল ও উদার হওয়াটা জরুরী। আলোচনা - সমালোচনা গঠনমূলক হওয়া জরুরী। সমালোচনা প্রকাশে/উপস্থাপনে থাকা উচিৎ সৃজনশীলতা এবং দিক নির্দেশনা।

Monday, June 11, 2018


আপনি কি নিজের কর্মক্ষেত্রে সফল??? নিচের বিশিষ্টগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করুন


আমাদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে কেউ কেউ অন্যদের চাইতে বেশি সফল হন। এবং এর কারনে অনেকে অনেক কথা বলে বেড়ান। অনেকে আবার বেশ ঈর্ষান্বিত হয়ে পরেন। যার ফলে অফিসের অন্যান্য সহকর্মীদের মাঝে এক ধরনের অলিখিত প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।
লক্ষ্য করুন, এক্ষেত্রে আমি প্রতিযোগিতার বিষয়টিকে ছোট করে দেখছি না, বরং বুঝাতে চাচ্ছি সহকর্মীদের সাথে  এমন কোন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে যাবেন না,যা আপনার জন্য অনাখাঙ্খিত ফল বয়ে আনতে পারে।
তবে কখনো কি নিজেকে প্রশ্ন করেছেন যে,    কেন ও সফল?            আমি নই কেন?

কর্মক্ষেত্রে সফলতার মূলমন্ত্র


সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে,ব্যক্তির কর্মদক্ষতা নয়, বরং ঐ ব্যক্তির ব্যক্তিত্বই তাকে তার কর্মক্ষেত্রে সফল করে তোলে। এক্ষেত্রে গবেষকদল ৫০০ জন শীর্ষ ব্যবসায়ীর উপর জরিপ চালান যেখানে ৭৮ শতাংশ ব্যবসায়ীই বলেছেন, ব্যক্তিত্বই একজনকে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের যোগ্য কর্মী হিসেবে গড়ে তোলে। 
আমাদের মধ্যে অনেকেই বেশিরভাগ সময় শুধুমাত্র বুদ্ধিমত্তাকেই ব্যক্তিত্ব পরিমাপের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা  করি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এখানে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, মানুষের ইন্টালিজেন্ট বা বুদ্ধিমত্তা নয় বরং ব্যক্তির ইমোশনাল বা আবেগের বিষয়টাই ব্যক্তিত্ব গঠনের এক মাত্র হাতিয়ার।
যে সহকর্মীরা অন্য সকলের চোখে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন, আসলে তাদের মাঝে ইমোশনাল কোশেন্টই বেশি কাজ করে ,ইন্টালিজেন্ট কোশেন্ট নয়। 

  •  শুধু কাজে পটু ব্যক্তিদের চাইতে ব্যক্তিত্বের অধিকারী সম্পন্ন কর্মীরা অধিক আত্মবিশ্বাসী হন । তারা কখনও কাজের পরিধির উল্লেখ করেন না অর্থাৎ তারা একথা বলেন না, এটা আমার কাজ নয় কিংবা এটা আমার জব ড্রেসক্রিপশনে ছিল না। বরং এরা নিজের কাজের বাইরেও অনেক কাজ করে থাকেন যা তাকে সত্যিই ব্যক্তিত্ববান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। শুধুমাত্র নিজের জন্য নয়, পারলে অন্যদের জন্যও  সাহায্যের হাত প্রসারিত দিন ।
  •  ব্যক্তিত্ববান সম্পন্ন মানুষ নিজেদের ইগো নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেন। নিজের ভুলত্রুটি সহজে স্বীকার করে নিতে জানেন। জটিল কোন কাজ বা পরিস্থিতিকে কীভাবে আরও উন্নত করে তোলা যায় তা নিয়েও ক্রমাগত ভাবনা-চিন্তা করেন এই জাতীয় কর্মীরা। তাই আপনার সহকর্মীদের এড়িয়ে গিয়ে নয়, বরং তাদেরকে সাথে নিয়েই বিরুপ পরিস্থিতির মোকাবিলা করুন।
  •  সহকর্মীরাই আপনার সাফল্যের চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।    কিভাবে???????????????????????????      এক হাতে যেমন তালি বাজে না তেমনি (আপনি যেখানেই থাকুন না কেন) সহকর্মীদের সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া কর্মে উন্নতি সম্ভব নয়। বলতে পারেন একে অপরের পরিপূরক। তাদের প্রয়োজনে যেমন আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন বিপরীতে আপনার প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা নিন। তাদের মতামতের গুরত্ত দিন।
      
সহকর্মীর মতামতকে গুরুত্ব দিন

আমাদের অনেকেরই মাঝে সহকর্মীদের প্রতি এক ধরনের উপেক্ষার মনোভাব লক্ষ্য করা যায়, যা আপনার জন্য মোটেও কাম্য নয়। তাদের নানান পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করুন। এতে নিজেকে খাটো করে দেখার কোন কারণ নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি আপনার সাফল্যকে তরান্বিত করতে সাহায্যে করে।
  •   মানুষের যেকোন কাজে, হোক সেটা কঠিন কিংবা দুঃসাধ্য,সফলতা আনে এই ইতিবাচক চিন্তাভাবনা। আমাদের জীবনে তাই সফল হতে হলে এটিই বেশি দরকারি। কেননা তা আমাদের ব্যক্তিত্বকে ভালভাবে ফুটিয়ে তোলে। অন্যদিকে নেতিবাচক চিন্তার মানুষ সারাক্ষণই হতাশা,দুঃখ ও বিষণ্নতায় ভোগে যা তার ব্যক্তিত্বকে ক্ষুণ্ন করে। তাই ব্যক্তিত্ববান হতে চাইলে সকল পরিস্থিতিতেই ইতিবাচক চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তবে এই ইতিবাচক চিন্তার অভ্যাস আমাদের মাঝে এক দিনে গড়ে উঠে না। এর জন্য নিজেকে তৈরি করতে হয়।                     

  •           কথা ও কাজের মধ্যে মিল রাখাই হচ্ছে ব্যক্তিত্ববান মানুষের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। তাই ব্যক্তিত্ববান হিসেবে নিজেকে সবার সামনে উপস্থাপন করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। যে কাজটি করা আপনার পক্ষে করা সম্ভব না, সেটা নিয়ে চেষ্টা না করাই ভাল। তাই সবসময় চেষ্ঠা করুন কথায় ও কাজে মিল রাখতে।

  •      প্রচলিত বাংলায় একটা প্রবাদ বাক্য রয়েছে :
                                                       
                                                   “সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস
                                                            অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ”

জীবনে উন্নতি করতে চাইলে ইতিবাচক চিন্তার অধিকারী হতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই আর নেতিবাচক মানুষের সাথে মেলামেশা, আমাদের ইতিবাচক চিন্তা করার পথ রুদ্ধ করে দেয়। কেননা নিষিদ্ধ দিকের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বরাবরই বেশি। 
ইতিবাচক চিন্তা করুন

তাই নেতিবাচক মানুষের সঙ্গে মেলামেশা আপনার চিন্তাশক্তির উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এবং ধীরে ধীরে আপনার চিন্তাও নেতিবাচক দিকে রূপ নেবে এবং যেটা আপনার জীবনে ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু আপনি যদি ইতিবাচক মানুষের সাথে মেলামেশা করেন তাহলে আপনার চিন্তাশক্তিও তাদের সংস্পর্শে এসে পজেটিভ হবে। এবং তাদের কাছ থেকে আহরিত শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে জীবনে উন্নতি সাধন করা সম্ভব।  

  •  আমরা মানুষ। আমাদের দ্বারা ভুল হবে এইটা স্বাভাবিক। ভুল করা অন্যায় কিছু নয় কিন্তু এই ভুলটাকে না সুধরে নিয়ে সেই ভু্লের পুনরাবিত্তি করা অন্যায়। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ সেই কাজটাই করে চলে প্রতিনিয়ত।
জীবনের সেই না চাওয়া ভুলের জন্য নিজেকে দোষারোপের মাধ্যমে সেই ভুলটাকেই আঁকড়ে ধরে বসে থাকি আর এই কারনেই আত্মবিশ্বাসে দেখা দেয় ব্যাপক ঘাটতি । যার ফলে নতুন কোন কাজে আমাদের আর হাত দেয়া হয়ে উঠে না। নতুন কোন লক্ষ্যের দিকে আমাদের মন আর ধাবিত হয় না। যার ফলে সেই সব ব্যক্তিকে সাফল্য কখনই ধরা দেয় না।
কিন্তু এই ভুলকে পাশ কাটিয়ে, নিজেকে যদি ক্ষমা করে, আপন উদ্যমে কাজে নেমে পড়ি, তখন কে জানে ফলাফলটা ভিন্ন হলেও হতে পারতো।
সাফল্য আপনার / আমার কাছে এক দিনে আসে না। আর আসে না বলেই আমরা জ্যাক-মা কে পেয়েছি।তাই আমাদের অতীতের করা কোন ভুলের জন্য নিজেকে দোষারোপ না করে,বরং নিজেকে ক্ষমা করার মাধ্যমে নতুন করে কাজে নেমে পড়লেই আমাদের জীবন সফলতায় ভরে উঠবে। আর এই প্রক্রিয়াই আমাদের মাঝে ইতিবাচক চিন্তার মনোভাব গড়তে সহায়তা করবে।
  • ইতিবাচক চিন্তার ফলাফল ইতিবাচকই হয় কিন্তু এরমানে এই নয় যে আপনি আপনার ভুল গুলোকে এড়িয়ে যাবে। সেগুলোকে প্রশ্রয় দেবেন। বরং এর মানে হলো আপনার করা ভুলগুলো বা নেতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করে ইতিবাচক চিন্তার মাধ্যমে সেই ভুলের সমাধানের পথে এগিয়ে চলা।
কিন্তু আমরা যদি ভুলগুলোকে এড়িয়ে যাই, তাহলে কোন ক্ষেত্রেই উন্নতি করা সম্ভব নয়। কেননা ভবিষ্যৎ এ সেই ভুলগুলোই যে পুনরায় আমাদের দ্বারা সংগঠিত হবে না, তার কি কোন নিশ্চয়তা আছে? তাই বুদ্ধিমত্তারর সাথে সেই ভুলের উৎস খুজে বের করে এবং এর সমাধান বের করলে পরবর্তীতে আমাদের দ্বারা সেই ভুলগুলো আর হবে না।

  •   “Failure is the pillar of success” ইংরেজির এই প্রবাদ বাক্যটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। বাস্তবেও কিন্তু তাই, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা লাভ করেই সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌঁছানো সম্ভব।
আমরা যদি ব্যর্থ হয়ে আমাদের জীবনের পথচলা বন্ধ করে দেই, সেই ব্যর্থতাকে কাজে না লাগিয়ে, সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা না নেই,তাহলে আপনার সেই কাঙ্ক্ষিত বিজয় নিশ্চিত হবে না। তাই আমাদের প্রয়োজন সেই ব্যর্থতাকে কাজে লাগানো। ব্যর্থ হওয়া মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া না নয়। ব্যর্থ হওয়া দমে যাওয়া না নয়।এই কথাটাকে চিরন্তন সত্য হিসেবে ধরে নিয়েই দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলতে হবে। তাহলেই না সাফল্যের শেষ হাসিটা আপনার মুখেই ফুটবে। তাই ব্যর্থতাকে সঙ্গী করুন।এটিই আপনাকে পৌছে দিতে পারে সাফল্যের শীর্ষচূড়ায়।

পরিশেষে বলব, কাজের ক্ষেত্রে আমাদের ডিগ্রী/ অভিজ্ঞতা দরকার হয়,তবে তার কোনটাই ব্যক্তিত্বকে ছাপিয়ে নয়।    
আপনি/আমি, আমরা সবাই একটি সুন্দর জীবনের প্রত্যাশা করি। আর একটি সুন্দর জীবন গড়ার জন্য নিজেকে একজন আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলুন। আর একজন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ব্যক্তিই তার পরিবার,সমাজ কর্মজীবন সব ক্ষেত্রেই সফল। তাই নয় কি???????